প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকার মুখ বেঁধে ডাকাতি,গহনা লুট চন্দননগরের মানকুন্ডু আশ্রমপাড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য,অধরা দুষ্কৃতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সোমবার সন্ধায় রিষড়া বিদ্যাপীঠ গার্লস হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা বনানী ভট্টাচার্য(৭৫) বাড়িতে একাই ছিলেন।তার পরিচারিকা সুলেখা গাইন অন্য বাড়িতে কাজে গিয়েছিলো।
দুই দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢোকে।শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে।সেলো টেপ দিয়ে বেঁধে দেয়।মারধোর করে।গলা টিপে মারতে গেলে শিক্ষিকা তাদের বলেন,সব নিয়ে নাও প্রাণে মেরো না।
হাতের চুরি,গলার হার ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা।

আহত বৃদ্ধাকে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল।
গতকালকের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত প্রাক্তন শিক্ষিকা।
আজ তিনি বলেন,আমাকে প্রাণে মেরেই ফেলত।গলা টিপে ধরেছিল।ওদের মুখ ঢাকা ছিল আমি ওদের চিনতেও পারিনি।বললাম তোমাদের চিনি না পুলিশ এলে বলবো কি। তাই আমাকে ছেড়ে দিলো।
পাশের বাড়িতেই ভাড়া থাকেন শিক্ষিকার বোন জলি চট্টোপাধ্যায়।তিনি অন্যদিন দিদিকে দেখতে এলেও গতকাল তিনি আসেননি।তিনি বলেন,২০১৯ সালে জামাইবাবু মারা যাওয়ার পর থেকে ওই পরিচারিকার এ বাড়িতেই থাকতো পরিচারিকা দিদির বাড়িতেই থাকে পরিবার নিয়ে।সে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ঘটনা ঘটে।আমি খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আসি।
পরিচারিকা সুলেখা গাইন বলেন,আমার দশ বছর যখন বয়স তখন থেকেই মামির কাছে আছি।তারপর আমার বিয়ে হয়।আগে অন্য জায়গায় ভাড়ায় থাকতাম।কয়েক বছর ধরে মামীর বাড়িতেই থাকি।আমি পাশের বাড়িতে কাজে গিয়েছিলাম তখনই এই ঘটনা ঘটে।আগে কোনো দিন এমন হয়নি।মামির বোন আসবে বলে দরজা খোলা ছিলো।চিৎকার শুনে আমি পাশের বাড়ি থেকে চলে আসি।মামীকে এই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।বাড়ির অন্য কোন জিনিসে হাত দেয়নি শুধু মামির গয়না নিয়ে গেছে।
শিক্ষিকার প্রতিবেশী মেরী রায় বলেন,আমি খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি দিদির মুখ বাধা সেলোটেপ দিয়ে।মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে।সবাই আতঙ্কে আছে।
চন্দননগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।চন্দননগর পুলিশের এক আধিকারীক জানান,অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।এর আগে বিদ্যা লঙ্কার এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছিল পাঁচ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
শিক্ষিকার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দুষ্কৃতীরা এখনো অধরা।
