প্রথমদিকে তা জানাজানি না হলেও পরে অশোকনগর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় পাঠানখালি পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে। তারপর গোটা ঘটনাটি জানাজানি হতেই গৌতম সর্দার পঞ্চায়েত প্রধানের পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার গল্প ফাঁদলেও পরবর্তী সময়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে।

টাকার বিনিময়ে জাল জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করা হত।সেই কাণ্ডের মূল পাণ্ডা- সহ সুন্দরবনের ব-দ্বীপ এলাকা পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী গৌতম সর্দার সহ সাত জন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট দেওয়ার চক্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে, শুধুমাত্র এই গ্ৰাম পঞ্চায়েতে অস্থায়ী কর্মচারী গৌতম সর্দার যে মূলত আবাস যোজনার সার্ভের কাজে যুক্ত হয়েছিল।
কর্মী সঙ্কটের কারণেই সেই গৌতম সর্দারকে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পঞ্চায়েতের জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট বিভাগ দেখভালের জন্য। পঞ্চায়েতের প্রধান সূচিত্রা ভুঁইঞা কম্পিউটার সম্পর্কে অনভিজ্ঞ থাকায় সেই সুযোগকে হাতিয়ার করেই পঞ্চায়েত প্রধানের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে OTP দিয়ে একের পর এক জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করতে থাকে।
প্রথমদিকে তা জানাজানি না হলেও পরে অশোকনগর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় পাঠানখালি পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে। তারপর গোটা ঘটনাটি জানাজানি হতেই গৌতম সর্দার পঞ্চায়েত প্রধানের পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার গল্প ফাঁদলেও পরবর্তী সময়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে। এর পরপরই পঞ্চায়েত প্রধান বিডিওর নির্দেশে গোটা ঘটনাটি জানিয়ে গোসাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম সর্দার সহ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেই গোসাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত নেবে পুলিশ গৌতম সর্দার সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। গৌতমের দাদা বলেন, “যদি আদালত মনে করে দোষী, তাহলে শাস্তি মাথা পেতে নিতে হবে।” কিন্তু গৌতমের বেশ কিছু কার্যকলাপে অখুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় এক টোটোচালক বলেন, “আমরা খুবই সাধারণ, টোটো চালিয়ে খাই। গরিব মানুষ। আমাদের নানাভাবে হেনস্থা করেছে। জায়গা কেড়ে নিয়েছে গৌতম সর্দার।”