
দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলার নাট্য ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে, উত্তরপাড়ার সমতট সংস্কৃতি। ২০০০ সালে হুগলির উত্তরপাড়ার গণভবনে সমতটনাট্য উৎসবের যে সূচনা হয়েছিল তা আজও অমলিন ।এ বছর সমতট নাট্য উৎসবে অংশ নিতে বাংলার প্রথিতযশা নাট্যকার রা তাদের নাটকের দল নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই অনুষ্ঠানে।

বুধবার কোন্নগরে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সমতট সংস্থার পরিচালক বাসুদেব হুই জানালেন যে বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নাটক বা থিয়েটার। গত ২৫ বছর ধরে আমাদের সংস্থার উদ্যোগে উত্তরপাড়ার গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সমতট নাট্য উৎসব। প্রতিবছর পশ্চিমবাংলার তথা অন্য রাজ্যের প্রথিত যথা অগ্রণী নাটকের দলগুলি আমাদের এই উৎসবে অংশ নেন ।এবছর এই নাট্য মেলায় ১৫ টি দল বিভিন্ন স্বাদের নাটক পরিবেশন করবেন, আগামী ১৬ থেকে ৩০শে ডিসেম্বর উত্তরপাড়ার গণভবনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাটকের এই মহা উৎসব, দেবশঙ্কর হালদার, চন্দন সেন, অর্পিতা ঘোষ, গৌতম চট্টোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয় দত্ত, মেঘনাথ ভট্টাচার্য, শান্তি লাল মুখার্জি, ঋতব্রত মুখার্জির, সৌরভ পালোধী র মতন প্রথিতযশা শিল্পী এবং পরিচালকরা ১৬ দিনে ১৭টি নাটক এবং একটি যাত্রা পালা অভিনয় করবেন, সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একতা নাট্যগোষ্ঠী সদস্যরা দুটি নাটকের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত থাকবেন। বাসুদেববাবু আরো জানান বর্তমান সময়ে বাংলার অন্যতম সংস্কৃতির নাট্য চর্চার ধারা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। যে কটি নাট্যগোষ্ঠী বা দল আজও নাটক কে ভালোবেসে বাংলার নাট্যপ্রেমী মানুষের কাছে নতুন নতুন নাটক উপস্থাপিত করছেন তা প্রশংসাযোগ্য, স্বয়ং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলে গিয়েছেন যে নাটকের মাধ্যমে লোকশিক্ষা হয়, তাই আমাদের এই প্রয়াস। এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই সংগঠনের বাংলার নাটক কে বাঁচিয়ে রাখতে এবং আগামী নাটক কে ভালবাসতে নূতন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে আমাদের সংস্থা সারা বছর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে নাটকের ওয়ার্কশপ করি, এবং আমরা মনে করি যদি এখান থেকে সুস্থ নাট্য ভাবনা যদি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায় সেইটাই আমাদের কাছে অনেকটা পাওয়া।
