নিজস্ব সংবাদদাতা হুগলি শ্রীরামপুর :- তুই ছাড়া আমার আর কেউ নেই খোকা তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আয় এই কাতর ডাক মা ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না পৃথিবীতে সেই মা-বাবাকে ছেড়ে খোকা বড় হয়েলেখাপড়া শিখে ভবিষ্যৎ গড়তে চলে যায় অনেকেই বিদেশে। এখানে বিশাল বাড়িতে থাকেন শুধু বাবা আর মা,হয়তো বা মা একা ঘরে আর কেউ নেই। এটাই বাবা মার কাছে বড় কষ্টের।এ থেকেই মনে আসে নিঃসঙ্গতা।
আর এই “নিঃসঙ্গতার” গল্পে সাজছে শ্রীরামপুরের নেতাজি মোড়ের পুজো মণ্ডপ।
দৈনন্দিন ব্যস্ততার যুগে কমছে একান্নবর্তী পরিবারে ঐতিহ্য।ফলে ছোট পরিবার সুখী পরিবারের বাসিন্দারা আজ বিপন্ন, কারণ একটাই “নিঃসঙ্গতা”।এবার সেই নিঃসঙ্গতার জীবন কাহিনীতে সাজছে শ্রীরামপুরের “নেতাজি মোড় সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির” পূজো মণ্ডপ।এবারে তাদের ভাবনা “নিঃসঙ্গতা যখন আপন ঘর”। মূলত ছোট পরিবার অর্থাৎ বাবা, মা এবং এক কিংবা দুই সন্তানের ভাবনায় গড়ে ওঠা পরিবার প্রতিযোগিতার অসম লড়াইে সেই সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করার পর কর্মসূত্রে সেই ছেলে কিংবা মেয়েকে চলে যেতে হয় দেশ কিংবা বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তারপর বার্ধক্য জনিত কিংবা শারীরিক সমস্যায় ক্রমশ নিঃসঙ্গতা গ্রাস করে মা কিংবা বাবাকে।

সন্তানকে একবার দেখার জন্য কাকুতি মিনতি থাকলেও তাদের আবেদনে সারা দেবার সময় থাকে না উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের অথবা কারোর ইচ্ছা থাকলেও বিদেশ থেকে এসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। স্বাভাবিকভাবেই ঘরের মধ্যেই একাকী থাকতে থাকতে গ্রাস করে নিঃসঙ্গতা,তারপর অবশেষে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। কিন্তু এই সময়কার যে জীবন কতটা কঠিন সেই কাহিনী বিভিন্ন ছবি,মডেলের মাধ্যমে সাজছে এই পূজো মন্ডপে।

পুজো কমিটি অন্যতম উদ্যোক্তা পিন্টু নাগ জানান প্রতি বছরের মতই এবারেও নতুন ভাবনাতে সেজে উঠছে আমাদের মন্ডপ।নিঃসঙ্গতার জীবন কিভাবে শেষ করে দিচ্ছে একটা প্রজন্মকে,

সেই কাহিনীতে সচেতনাতার বার্তায় ভেসে উঠেছে, টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি আমার সময় নেই আমি যেতে পারব না কোথাও লেখা এবছরের পূজোয় ছুটি পাচ্ছিনা তাই বাড়ি যেতে পারব না কোথাও মা চিঠি লিখেছেন খোকা তাড়াতাড়ি বাড়ি আয় তোকে একটিবার দেখার ইচ্ছে খুব রে আমার, আবার কিছু জায়গা মায়ের বোনের ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে যাকে হাতে ধরে হাঁটতে শেখালাম সে আজ আমার হাত ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে

এইরকম বিভিন্ন লেখা এই মন্ডপে এসে দেখতে পাবেন আপনার আবারো দেখতে পাবেন মা ছেলেকে দেখার আশায় ঘরের দরজা খুলেই শুয়ে আছেন,

ইজি চেয়ারটি ফাঁকা খোকার বাবা আজ আর নেই ওই চেয়ারেই এক সময় বসে খোকার কথাই ভাবতেন। আমার কোন ছেলেমেয়েরা হয়তো বা মাকে বা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে চলে গেছেন বিদেশ,এইসব নানান ভাবনা নেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।
মন্ডপ যিনি বানাচ্ছেন সেই দেবব্রত বাবু জানান প্রায় তিন মাস ধরে চলছে এই মন্ডপটির কাজ পাশের কাজ তো আছেই তার সাথে প্রায় ফাইবার ও কাপড়ের কিছু কাজ আছে তিনি চান দর্শকরা এসে দেখুক তারপর মতামত দিন, ধীরে ধীরে সেজে উঠছে সেই আবহ,এখন তারই প্রতীক্ষায়
