এস আই আর এর দোহাই দিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে বাদ দিয়েছে এর বিরুদ্ধে বাঁচতে আমাদের জোট বদ্ধ হতে হবে জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরের স্টেডিয়াম ময়দানের জনসভায়।

Spread the love

 

এস আই আর এর দোহাই দিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দিয়েছে, মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে,এর বিরুদ্ধে বাঁচতে গেলে জোট বাঁধতে হবে, জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। বুধবার শ্রীরামপুরের ভিড়ে ঠাসা প্রফুল্ল চন্দ্র স্টেডিয়ামে শ্রীরামপুর এবং চাঁপদানি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ, এবং অরিন্দম গুইন, এর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় এসে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি এক ঘণ্টার উপর বক্তব্য রাখেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন কেন্দ্রের জমিদাররা যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, পিছন দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে তার বিরুদ্ধে বাংলার সমস্ত মানুষ সোচ্চার হোন।যে ষড়যন্ত্র বিজেপি করেছে তার বিরুদ্ধে যতদূর যাবার আমি যাব দরকার হলে আবার মামলা করব কিন্তু এর শেষ দেখে ছাড়বো। তিনি বলেন নদীয়া, মুর্শিদাবাদ,মালদা,উত্তর চব্বিশ পরগনা,দক্ষিণ 24 পরগনা কলকাতার কয়েক লক্ষ্য প্রকৃত ভোটারের নাম কেটে বাদ দিয়েছে, তাহলে ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে সারা দেশে যে নির্বাচন হলো দিল্লির জমিদাররা এই ভোটার লিস্টের নিরিখেই নির্বাচিত হয়েছেন। তারা তাহলে তারা কেন ক্ষমতায় থাকবেন, তিনি বলেন অনুপ্রবেশ কারী ঘুষপেটিইয়ার নামে যথেচ্ছ ভাবে নাম কাটা হয়েছে , আমার প্রশ্ন সীমান্তের পাহারার দায়িত্ব কাদের উপর রয়েছে, কেন্দ্রের বিএসএফ সিআরপিএফ সিআইএসএফ রা কি করছে, আসামে এনআরসির নামে কয়েক লক্ষ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছে, বাংলায় এই ধরনের অপচেষ্টা হলে তা দেব না,এর সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এর রাজ্যের মা মাটি সরকারের আমলে যে সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি হাতে নেয়া হয়েছে তার বর্ণনা দেন তিনি বলেন রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন ছাত্ররা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পাচ্ছে বিধবা ভাতা বার্ধক্য ভাতার মতন প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন এর সঙ্গে সঙ্গে এই হুগলি জেলার মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছে, রাধাবল্লব মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছে, তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়েছে, ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়েছে,শ্রীরামপুরে সিল্ক হাব হয়েছে, চন্দননগরের আলো হাব হয়েছে। পনেরশো কোটি টাকা খরচ করে উত্তরপাড়ায় পরিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্প করা হয়েছে,মুখ্যমন্ত্রী বলেন চন্দননগরের জগৎ বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভালের আদলে আমরা কলকাতায় রেড রোডে দুর্গা কার্নিভাল শুরু করেছি।

যা পৃথিবীর মানুষের কাছে বিস্ময় এর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জেলাতেও দুর্গা পূজার কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমরা এখানকার প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দিই যা আমি আগামী দিনেও দিয়ে যাব। অন্যদিকে বিজেপি চৈত্র সেলের মতন সব কিছু বেচে দিচ্ছে। এলআইসি, কোল ইন্ডিয়া, সেল, ব্যাংক কোন কিছুই বাদ যায়নি,দেশকে শেষ করে দেবার ষড়যন্ত্র করছে। এদিনের জনসভায় বিশাল সংখ্যক মহিলাদের সামনে তিনি প্রশ্ন করে বলেন লক্ষী ভান্ডার সহ সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা আপনারা পাচ্ছেন তো , লক্ষী ভান্ডার কোনদিনই বন্ধ হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় খুশিতে মহিলারা জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও জনসভায় জোরালো বক্তব্য রাখেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তন্ময় ঘোষ এবং অরিন্দম গুইন, এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের পুর প্রধান গিরিধারী সাহা, রিষড়ার পুর প্রধান বিজয় সাগর মিশ্র,চাঁপদানির পুর প্রধান সুরেশ মিশ্র,,বৈদ্যবাটি পৌরসভার পুর প্রধান পিন্টু মাহাতো সহ অন্যান্যরা এদিনের জনসভা টির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শ্রীরামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্তোষ কুমার সিং।

 

 

 

 


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *