নিজস্ব সংবাদদাতা হুগলি :-
সংসদের ধুনুচি নাচে নচিকেতার গানে পালন হলো কার্নিভাল উৎসব।

চারদিন ভক্তদের মাঝে কাটিয়ে দশমীর দিন মা দুর্গা মর্ত লোক ছেড়ে যাত্রা করেছেন কৈলাসের পথে, কিন্তু তার রেশ্ এখনো রয়েছে তার সন্তানদের হৃদয়ে। ২০১৬ সালে কৃষ্টি সংস্কৃতির রাজধানী কলকাতায় পশ্চিমবাংলায় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সাংস্কৃতিক ধারাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে শুরু করেছেন দুর্গা পূজা কার্নিভাল। প্রতিবছর কলকাতার রেড রোডে রাজ্যের বিভিন্ন কোণ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয় বাংলার শিল্প সংস্কৃতির রঙিন শোভাযাত্রা নৃত্য গীতের মাধ্যমে। ইউনেস্কো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কার্নিভালের সঙ্গে কলকাতার দুর্গা পুজোকেও স্বীকৃতি দিয়েছে এখানকার পুজোর কর্মকাণ্ডকে সম্মান জানিয়ে। এখন শুধু কলকাতা নয় দূর্গা পূজা কার্নিভাল ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলায় জুড়ে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান।

শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরে অনুষ্ঠিত হলো অত্যন্ত জমজমাট রঙিন দুর্গা পূজা পরবর্তী এই কার্নিভাল বা শোভাযাত্রা। এদিন বিকাল চারটে বাজার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীরামপুর মাহেশের জগন্নাথ দেবের স্নান পিরি মাঠ থেকে জেলার বাছাই করা প্রতিমা গুলিকে নিয়ে শুরু হয় রঙিন এই শোভাযাত্রা। প্রতিটি পুজো কমিটি তাদের শৈল্পিক চিন্তাধারাকে রূপ দিয়ে জমকালো শোভাযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যায় জি টি রোড ধরে। এক একটি পুজো কমিটির তাদের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারার যে ভাবনা তা ফুটিয়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ আনন্দে ফেটে পড়েন হাততালি হর্ষ ধ্বনির মাধ্যমে কার্নিভালকে স্বাগত জানায়। মাহেশ বোসপাড়া বাজারের কাছে জি টি রোডের উপর বিশাল মঞ্চ থেকে শ্রীরামপুরের সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্নিভালের উদ্বোধন করে বলেন বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গোৎসব যে এই পর্যায় যেতে পারে তা কার্নিভাল করে দেখিয়ে দিয়েছেন। এদিনের এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন আরামবাগের সংসদ মিতালি বাগ বিধায়ক অরিন্দম গুইন, বিধায়ক ডাক্তার সুদীপ্ত রায়, সুবীর মুখোপাধ্যায়, হুগলীর জেলা শাসক মুক্তা আর্য, চন্দননগর পুলিশ কমিশ নারেটের সিপি অমিত পি জগলভি শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার, সহ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিটি উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা সহ জেলার সব বিধায়ক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্টজনেরা। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন সংগীত শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। এদিনের রঙিন কার্নিভাল শুরুর অনেক আগে বেলা দুটো থেকে অবরুদ্ধ হয়ে যায় জি টি রোড।


জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাস্তার দু’ধারে অগণিত মানুষ মানুষে এসে হাজির হন রঙিন এই উৎসবে সামিল হতে। এছাড়াও রাজপথের দু ধারের সুউচ্চ ছাদের মাথায় অগণিত মানুষকে অপূর্ব সুন্দর এই শোভাযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়। জেলার সুদূর আরামবাগের খানাকুলের ঘোষ পুর সার্বজনীন কার্নিভালে ডিভিসির ছাড়া জলে কিভাবে প্রতিবছর এখানকার মানুষেরা জল যন্ত্রনায় কষ্টপান তার মর্মস্পর্শী ছবি ফুটিয়ে তোলেন। জেলার মোট ১৭ টি বাছাই করা প্রতিমা অংশ নেন সুন্দর এই কার্নিভালে। প্রত্যেক পুজো কমিটি তাদের সেরা সংস্কৃতিক ভাবনা কে
উপস্থাপিত করে বিশিষ্ট জনের কাছে। পাঁচ ঘন্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠান শেষে শ্রীরামপুরের গঙ্গায় বিসর্জিত করা হয় প্রতিমা গুলিকে। মোট ১৭ টি ক্লাবের প্রতিমা নিয়ে এই কার্নিভাল উৎসব হয়
